পানি পান করা কিভাবে ও কখন বাড়াবেন?

Posted on July 1, 2011

0



প্রিয় পাঠক, কেমন আছেন? আপনাদের সবাইকে বর্ষার শুভেচ্ছা| পানি ও ফিটনেস সিরিজ কেমন লাগছে? পানি ও ফিটনেস সিরিজ পর্ব:১ থেকে পানি পান করার প্রয়োজনীয়তা বুঝেছেন নিশ্চয়ই| সুস্থ্য , সবল ও সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার বা হেলদি লাইফ স্টাইল মেনে চলার খুব সহজ একটি উপায় হচ্ছে, প্রতিদিন অনেক বেশি পানি পান করা|
তাই আপনাদের জন্যে পানি পান করা কিভাবে বাড়াবেন, তার কিছু টিপস দিচ্ছি| আশা করি কাজে লাগবে|
পানি পান করা কিভাবে ও কখন বাড়াবেন?
  • চিনি যুক্ত পানীয়, যেমন: কোমল পানীয় না পান করে, সাধারণ পানি পান করুন| এতে আপনি বাড়তি ক্যালরি খাওয়া থেকে বাঁচবেন, বেশি পানি পান করার উপকারিতা পাবেন|কারণ কোমল পানীয়তে প্রচুর চিনি থাকে, যা ওজন বাড়ানোর কারণ হিসাবে কাজ করে|কোমল পানীয় কেন পান করবেন না? ক্লিক করুন|
  • আপনার অফিসের ডেস্কে, পড়ার টেবিলে, বা হাতের কাছে সব সময় পানির বোতল রাখুন, একটু পর পর পানি পান করুন| অনেকে পানি না পান করে আলসেমি করে বসে থাকেন, তাই হাতের কাছে সব সময় পানি রাখুন |
  • আপনার শরীরের কথা শুনুন, পানি না পান করে বসে থাকবেন না, যখনি একটু হলেও তৃষ্ণা পাবে, পানি পান করুন|
  • পানি পান করা বাড়াতে, সুন্দর আকারের/ দেখতে সুন্দর পানির বোতল সাথে রাখুন| সুন্দর কাপ বা গ্লাসও ব্যবহার করতে পারেন
  • খাবার খাওয়ার আগে পানি পান করুন| কারণ এতে আপনি কম খাবার খাবেন, ফলে ওজন কমবে
  • খুব বেশি তৃষ্ণা পাবার আগেই পানি পান করুন
  • একটু পর পর পানি পান করা – অভ্যাসে পরিণত করুন
  • প্রয়োজনে দিনে কত গ্লাস পানি খাচ্ছেন, তা গুনুন |
  • প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার পরে ও পরবর্তী বেলা খাবার খাওয়ার মাঝে পানি পান করুন
  • সকালে উঠেই খালি পেটে, সকালের নাস্তা খাবার আগে বা চা পান করার আগে, এক/দুই  গ্লাস পানি পান করুন| এটা হতে পারে লেবু মধু পানীয়| লেবু মধু পানীয়  এক গ্লাস + সাধারণ পানি  এক গ্লাস = দুই গ্লাস পানি এভাবে পান করতে পারেন
  • সকালের নাস্তা খাবার দুই ঘন্টা পরে আবার এক/দুই গ্লাস পানি পান করুন
  • দুপুরের খাবারের এক/দুই ঘন্টা পরে এক/দুই গ্লাস পানি পান করুন
  • রাতের খাবারের আধা ঘন্টা আগে দুই/তিন গ্লাস পানি পান করুন | রাতের খাবার কখন খাবেন? জানতে ক্লিক করুন
  • ঘুমানোর এক ঘন্টা আগে আবার এক গ্লাস পানি পান করুন
  • খালি পানি পান করতে ভালো লাগে না? তাহলে পানির সাথে একটু লেবু চিপে খান| এছাড়া পানির সাথে কিছু পুদিনা পাতা বাটা মেশাতে পারেন|
  • অতিরিক্ত ক্ষুধার্ত হলে খাবার কম খেতে, খাবার খাওয়ার কিছু আগে এক গ্লাস পানি পান করে নিন|
  • পানি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খান: যেমন: তরমুজ, আনারস, কমলা, জামরুল, যে কোনো রসালো ফল, সালাদ, টমেটো,ইত্যাদি|
  • তাজা ফল বা সবজির জুস খান| তবে এতে চিনি ও লবন পরিহার করুন| এছাড়া কম ঘন স্যুপ বা ক্যাফেইন মুক্ত হারবাল চা, যেমন- তুলসী চা খেতে পারেন|
  • অতিরিক্ত গরমের দিনে যখন প্রচন্ড ঘাম হয়, তখন বেশি বেশি পানি পান করুন| পানি আপনার শরীর ঠান্ডা রাখবে, সব অঙ্গ প্রত্বঙ্গ ঠিক মতো কাজ করবে| গরমের দিনে পানির অভাবে আপনার মাথা ঘুরতে পারে
  • গরমের দিনে ডাবের পানি খেতে পারেন|
  • শরীর দুর্বল লাগলে স্যালাইন, গ্লুকোজ মিশানো পানি বা ডাবের পানি পান করুন |
  • ব্যায়াম করার আগে, সময় ও পরে পানি পান করুন| প্রতি ২০ মিনিটে এক গ্লাস পানি পান করতে হবে| ব্যায়াম করার সময় কিভাবে পানি পান করবেন? ক্লিক করুন|
  • আপনি যদি গরম আবহাওয়ায় অনেক সময় ধরে, high intensity ব্যায়াম করেন, বা খেলাধুলা করেন, তবে অনেক বেশি বেশি পানি পান করতে হবে| সাধারণত: এক ঘন্টার বেশি হলে electrolyte যুক্ত পানি বা স্পোর্টস ড্রিংক পান করতে হবে| তানাহলে, সাধারণ পানি পান করলেই চলবে
  • জ্বর হলে, ডায়রিয়ায়, বমি হবার পরে, ইউরিন ইনফেকশন হলে পানি পান করা বাড়াতে হবে
  • আপনার bowel movement যদি ঠিক মতো না হয় এবং আপনার যদি কোষ্ঠকাঠিন্য হয়, তাহলে পানি পান করা বাড়াতে হবে|
  • Gastrointestinal সমস্যা বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায়, হজমের সমস্যা ও heartburn হলে, পানি পান করা বাড়াতে হবে|
  • এছাড়া বিভিন্ন রকম শারীরিক সমস্যায়, যেমন: জয়েন্ট(Arthritis) ও ব্যাক পেইন, উচ্চ রক্তচাপ, মাথা ব্যথায়, ডাক্তারের নির্দেশ মত পানি পান করা বাড়াতে হবে
  • আপনি যদি সারাদিন বা অধিকাংশ সময় air conditioner/room heater  ব্যবহার করেন, তাহলে পানি পান করা বাড়াতে হবে| কারণ এই যন্ত্র শরীর ও ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়|
উপরের নিয়ম গুলো মেনে চলে কিছুদিন পরে দেখুন আপনার স্বাস্থ্যের কত উন্নতি হয়েছে, বা ফিটনেস কত বেড়েছে|
পানির আরো অজানা তথ্য জানতে আগামী প্রকাশনার অপেক্ষায় থাকুন|
ফিটনেস বাংলাদেশের লেখা ভালো লাগলে, ইমেইলে নিয়মিত নতুন পোস্ট পেতে উপরে ডান দিকে আপনার ইমেল ঠিকানাটি লিখেsubscribe করুন|
 

1 Vote
Advertisements