পুরুষের বেকারত্বে বিচ্ছেদ বেশি

Posted on July 5, 2011

0


স্বামী যদি হয় বেকার, আর স্ত্রী যদি হয় কর্মজীবী, সে ক্ষেত্রে বিচ্ছেদের ঘটনা বেশি ঘটে। ওই পরিস্থিতিতে স্ত্রীর পক্ষ থেকেই স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বামীই হীনম্মন্যতা থেকে বাঁচতে বিচ্ছেদ চায়। এমনকি দাম্পত্যজীবনে অপেক্ষাকৃত সুখী হলেও স্বামী চাকরি হারালে বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটতে পারে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এমনটাই দেখা গেছে।
স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে চাকরির প্রভাব নিয়ে গবেষকরা ওই সমীক্ষা চালান। এতে পাওয়া ফলাফল বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, এখন আর নারীদের চাকরি করার ক্ষেত্রে খুব একটা সামাজিক বাধা নেই। কিন্তু স্ত্রী চাকরি করলেও বেকার স্বামী বিচ্ছেদের মাধ্যমে ভরণপোষণের চাপ থেকে মুক্ত হতে চায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক লিয়ানা সেয়ার গবেষকদলের নেতৃত্ব দেন। তিনি বলেন, স্বামীর জীবনযাত্রায় স্ত্রীর চাকরি থাকা না থাকার কোনো প্রভাব থাকে না। এ কারণে স্বামী বিচ্ছেদ বেছে নেয়। তা ছাড়া গৃহিণী স্ত্রীর চেয়ে কর্মজীবী স্ত্রী সহজেই বিচ্ছেদের দিকে যেতে পারে। গৃহিণী স্ত্রী কেবল তখনই স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটায়, যখন তার দাম্পত্যজীবন চরম অসুখী হয়।
অন্যদিকে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে স্বামীর চাকরি থাকা না থাকার প্রভাব অনেক বেশি বিস্ময়কর। স্বামীর চাকরি না থাকলে কেবল স্ত্রীর মধ্যে যে তাকে ছেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি তা নয়, সে নিজেও আর এভাবে সংসারে থাকতে চায় না।
বেষকরা বলছেন, অনেকেই মনে করে, স্বামীর বেকার থাকা গ্রহণযোগ্য নয়। সামাজিক-সাংস্কৃতিক বৈসাদৃশ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবে অনেকের মধ্যে এমন ধারণা বিদ্যমান।
১৯৮৭-১৯৮৮, ১৯৯২-১৯৯৪ এবং ২০০১-২০০২ এই তিন পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবার ও খানা জরিপ থেকে তিন হাজার ৬০০ দম্পতির তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। গবেষণার এ প্রতিবেদন সোশিওলজি সাময়িকীতে প্রকাশ করা হবে। সূত্র : ডেইলি মেইল অনলাইন।
Advertisements