প্রখর বুদ্ধিমত্তার পাখি কবুতর

Posted on July 6, 2011

0


পশুপাখির বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের কৌতূহল ও গবেষণা সীমাহীন। এসব গবেষণায় জানা গিয়েছিল, কবুতরের বুদ্ধিমত্তা বেশ প্রখর। যথাযথ প্রশিক্ষণ পেলে এরা যথেষ্ট বুদ্ধির পরিচয় দেয়। কিন্তু এবার গবেষকরা বলছেন, প্রশিক্ষণ পেলে তবেই এদের বুদ্ধি খোলে, বিষয়টি এমন নয়। প্রশিক্ষণ ছাড়াও এদের বুদ্ধিমত্তা বেশ প্রখর। দেখা গেছে, একেবারেই অপ্রশিক্ষিত ‘ছন্নছাড়া’ গোছের কবুতররাও একবার কাউকে দেখলে তার চেহারা আর ভুলে যায় না। এমনকি বেশভূষা পাল্টে এলেও কবুতর ঠিক ঠিক চিনে নিতে পারে।
ফ্রান্সের প্যারিসে একটি রাস্তায় নিয়মিতভাবে এসে জড়ো হওয়া কবুতরদের ওপর সম্প্রতি এ বিষয়ে এক গবেষণা চালানো হয়। প্রায় একই রকম গড়নের এবং একই ধরনের পোশাক পরা দুজন গবেষক একই সঙ্গে সেখানে উপস্থিত হন। একজন কবুতরদের ডেকে এদের খাবার খেতে দেন। অন্যজন এদের তাড়িয়ে দেন। পরে আবার তাঁরা সেখানে যান। এ সময় বিভিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিশ্চিত হওয়া যায়, কবুতরগুলো ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ ও ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দুজন ব্যক্তিকে আলাদা করে চিনতে পেরেছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, কবুতরদের বুদ্ধি বেশ প্রখর। পোশাক বা ভোল পাল্টে এদের কখনো বোকা বানানো যায় না। বেশভূষা বদলে এলেও ঠিক ঠিক চিনে নিতে পারে। গবেষকদের মতে, মানুষের মুখের অভিব্যক্তি বিশ্লেষণ করে এরা এ কাজ খুব নিখুঁতভাবে করে।
অন্য একদল গবেষক জানিয়েছেন, কাকেরও রয়েছে একই ধরনের ক্ষমতা। এদেরও স্মৃতিশক্তি বেশ প্রখর। পাশাপাশি এরা মানুষের মুখাবয়ব ও চেহারার অভিব্যক্তি বিশ্লেষণ করে কে ‘নিরাপদ’ আর কে ‘বিপজ্জনক’, তা আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. জন মারজ্লফ গবেষণার ওপর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেছেন, ‘এ গবেষণা বড় আকারের মস্তিষ্কের প্রাণীদের সঙ্গে ক্ষুদ্রাকার মস্তিষ্কের প্রাণীদের সম্পর্ক প্রমাণ করে।’ গবেষকরা মন্তব্য করেছেন, অন্তত বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে কবুতর ও কাকের মতো প্রাচীন পাখিরা মানুষের খুব কাছের। সূত্র : দ্য ডেইলি মেইল অনলাইন।

Advertisements