মোমের ধোঁয়ায় বিষ!

Posted on July 8, 2011

0


মোমবাতি একটা সময় পর্যন্ত ছিল প্রয়োজনের জিনিস। লোডশেডিং হলে বা যেখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই, সেখানে মোমের আলো ত্রাণকর্তার মতো। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে গেছে এ চিত্র। মোম এখন হয়ে উঠেছে শৌখিন সামগ্রী। ইচ্ছে করে বিদ্যুতের বাতি নিভিয়ে প্রিয়জনের সঙ্গে ক্যান্ডেল-লাইট ডিনার বা একান্তে কিছুটা সময় একেবারেই নিভৃতে উপভোগের জন্য পাশে কয়েকটি মোম জ্বালিয়ে বাথটাবে আয়েশ বা প্রায় সুখনিদ্রা… এ ধরনের প্রয়োজনে এখন মোমের কদর বাড়ছে দিন দিন। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এসব মোম এতটাই ক্ষতিকর যে, এর কারণে প্রাণও যেতে পারে কারো। কেননা এসব মোমের ধোঁয়া সিগারেটের ধোঁয়ার মতোই বিষাক্ত!
যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি, সাউথ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাজ্য ও
ডেনমার্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একাধিক গবেষণায় মোমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব গবেষণায় জানা গেছে, শৌখিন ব্যবহারের উদ্দেশ্যে উৎপাদিত মোম সাধারণ ব্যবহারের মোমের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। শৌখিন মোমগুলো অনেক বেশি নরম, বর্ণিল ও সুগন্ধিময় হয়ে থাকে। মোমে এসব বৈশিষ্ট্য যোগ করতে অনেক বেশি রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়।
গবেষণার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই এসব মোমের উপাদান পেট্রোলিয়াম, টলুইন ও বেনজিনের মতো মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ। এগুলো মোমের সঙ্গে পোড়ার সময় ধোঁয়ার সঙ্গে অনেক বেশি ক্ষতিকর পদার্থ (ভলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ড) নিঃসরণ করে। এসব উপাদান সিগারেটের ধোঁয়ার মতোই বিষাক্ত ও প্রাণঘাতী।
গবেষকরা জানিয়েছেন, শৌখিন ব্যবহারের কারণে এসব ক্ষতিকর পদার্থ অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। রেস্তোরাঁ বা খাবার ঘরে ক্যান্ডেল-লাইট ডিনার আর বাথরুমে শৌখিন গোসল_এ ধরনের বিলাসিতার জন্য এসব মোম জ্বালানো হয় সাধারণত বদ্ধ স্থানে। এসব স্থানে বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত বা অনেক ক্ষেত্রে নূ্যনতম ব্যবস্থাও থাকে না। ফলে মোমের ধোঁয়ার সঙ্গে থাকা বিষাক্ত উপাদানের প্রায় সবটুকুই নিঃশ্বাসের সঙ্গে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। আর এতে ক্ষতির মাত্রা অনেক বেড়ে যায়।মোমের এসব ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, নরম মোমের ব্যবহার কমিয়ে আনা, সুগন্ধি মোম যত দূর সম্ভব এড়িয়ে চলা, মোম ব্যবহারের স্থানে বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা ইত্যাদি বিষয়ের দিকে মনোযোগ রাখলে এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
সূত্র : দ্য ডেইলিমেইল অনলাইন।
Advertisements