আসছে অনন্ত যৌবন লাভের মহৌষধ

Posted on July 9, 2011

0


মানুষ বুড়ো হলেই শরীরে বাসা বাঁধে হাজারো অসুখ-বিসুখ। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কমে যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, ত্বক কুঁচকে যায়, দৃষ্টি শক্তি হয় ক্ষীণ, স্মৃতিও হয়ে যায় ঝাপসা। অন্তীম ক্ষণের এই নানামুখী ঝক্কি ঝামেলার ভয়ে সবাই চান চির তরুণ থাকতে। জীবনের সর্বস্ব দিয়েও কেউ কেউ তারুণ্য কিনতে চেয়েছেন এমন গল্প সবারই জানা।
এতোদিন মানুষের চির তরুণ হয়ে বেঁচে থাকার এই স্বপ্ন অধরা থাকলেও সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা একটা সুখবর দিয়েছেন। তারা বলছেন, শিগগির বাজারে আসছে বৃদ্ধ বয়সে রোগ প্রতিরোধকারী ওষুধ। এ বিশেষ ওষুধ সেবনের ফলে কোনো রোগ বালাইয়ের স্পর্শ ছাড়াই বৃদ্ধ বয়সটা অতিক্রম করা যাবে যৌবনের মতোই স্বাচ্ছন্দে। শুধু তাই নয় জাদুমন্ত্রের মতো কুঁচকে যাওয়া ত্বক হয়ে যাবে টান টান মসৃন। শ্বেত শুভ্র চুলের জায়গায় হয়ে যাবে মাথাভর্তি ঘন কালো (যার যেমন)।
আজীবন তরুণ থাকার এ মহৌষধটি বাজারে আসছে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই।
শুক্রবার সেলটেনহাম বিজ্ঞান উৎসবে এমনটিই জানালেন লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক লিনডা পার্টিজ।
উৎসবে বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত জিনবিদ্যার বিশেষজ্ঞ লিনডা বলেন, গবেষকরা প্রাণীর স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ূর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত জিন সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। এ জিনের ওপর কাজ করে এমন ওষুধও বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করে ফেলেছেন।
উদাহরণ হিসেবে তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বেঞ্জামিন বোটনের গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। এতে একটি বয়স্ক ইঁদুরের শরীরে ওই ওষুধটি প্রয়োগ করা হয়। ওষুধ প্রয়োগের সময় ইঁদুরটির ত্বক, মস্তিষ্ক, নাড়িভুঁড়ি এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রতঙ্গে বয়সের ছাপ ছিল।
কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম নিয়ন্ত্রণকারী ওষুধটি প্রয়োগ কারার মাত্র দুই মাসের মধ্যে প্রাণীটি দেহে অনেক বেশি নতুন কোষ তৈরি করল যা সে প্রায় সম্পূর্ণরুপে হারিয়ে ফেলেছিল। এতে লক্ষ্যনীয়ভাবে ইঁদুরটি তরুণ অবস্থায় ফিরে আসে।
অন্য একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনসুলিন এবং কিছু হরমোনের ওপর প্রতিক্রিয়ার সম্পর্কগুলোই প্রাণীর স্বাস্থ্য ও বুড়িয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ ইনসুলিন ও হরমোনের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী উপদানগুলোর ওপর গবেষণার মাধ্যমে বয়স নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অধ্যাপক লিনডা এ ওষুধ গ্রহণের নিয়ম সম্পর্কে বলেন, ‘মধ্যবয়স থেকে প্রতিদিন একটি করে বড়ি গ্রহণ আমাদের বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা উপেক্ষা করলে ওষুধটি সেবনের পর থেকেই রোগ-শোকহীন উচ্ছ্বল তারুণ্যের মধ্যে বাকি জীবন অতিবাহিত করার গ্যারান্টি দেওয়া যেতে পারে।
কিছু আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানি ইতেমধ্যেই এ ধরনের ওষুধ বাজারজাত করার আগ্রহ দেখিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ওষুধ বাজারে আসলে তা একজন মানুষকে অসুস্থ হওয়ার ভোগান্তি ও চিকিৎসা ব্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করবে।
Advertisements