মুখ দেখে যায় চেনা, কতটুকু তার প্রতারনা!!!

Posted on July 10, 2011

0


প্রবাদে আছে, চেহারা মনের কথা বলে। চেহারার রং পাল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় অভিব্যক্তি। মনের ভাবনার আভাস তো তাতে মিলবেই। আর এই চেহারা দেখা মানে প্রকারান্তরে কিন্তু মুখ দর্শন। কারণ, অভিব্যক্তি পাল্টানোর ক্ষমতা আছে শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর মধ্যে শুধু মুখের। কিন্তু কোনো ব্যক্তির শুধু মুখের আকৃতি দেখেই কি বলে দেওয়া সম্ভব তিনি কতটা সুবিধাবাদী কিংবা মিথ্যেবাদী? কঠিন এই বিষয়টা নিয়ে গবেষণা করছে আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়। গবেষণার পর তাদের প্রাথমিক ভাষ্য, ‘পুরুষদের মধ্যে চওড়া গড়নের মুখমণ্ডল যাদের_তাদের সুবিধাবাদী হওয়ার সম্ভাবনা একটু বেশিই। আর্থিক সুবিধা হাতাতে তারা তুলনামূলক বেশি পটু। প্রয়োজনে মিথ্যে বলতেও তারা কার্পণ্য করে না।’ এর মানে এই নয়-গোল, লম্বা, সুচালো বা অন্য গড়নের মুখমণ্ডল যাদের তারা এ ধরনের কাজে একেবারেই অনভিজ্ঞ। তবে তাদের সংখ্যা চওড়া গড়নের মুখমণ্ডলের অধিকারীদের তুলনায় কম।
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-মিলওয়াওকি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে এ বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা। গবেষক দল এ বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত পাওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের মাস্টার্স পড়ুয়া ১৯২ শিক্ষার্থীর ওপর পরীক্ষা-নীরিক্ষা চালায়। তাদের মধ্যে ১১৫ জন ছিল ছাত্র। বাকিরা ছাত্রী। সেখানে সবাইকে একটা কাজ দেওয়া হয়। বাণিজ্যের ছাত্রদের জন্য সোজা ও আকর্ষণীয় কাজ। তাদের একটি দলকে ক্রেতা ও অন্য দলটিকে বিক্রেতা সাজানো হয়। এরপর তাদের দেওয়া হয় জমি-জমা, সম্পত্তি কেনা বেচার দায়িত্ব। ইমেইলের মাধ্যমে প্রত্যেককে করণীয় সম্পর্কে গোপন বার্তা পাঠানো হয়। তবে প্রত্যেকের জন্য গোপনীয় বলা হলেও আসলে ওই বার্তাগুলোতে বিক্রেতাদের বলা হয়েছিল, যদি ক্রেতা বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তোমার সম্পত্তি কিনতে চায় তাহলে বিক্রি করো না। আর বিক্রেতাদের টার্গেট দেওয়া হয়েছিল, বাণিজ্যিক কারণে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই জমি বা সম্পত্তি ক্রয় করতে হবে। এ কাজ যখন শেষ হলো, গবেষকরা ফল দেখে সিদ্ধান্তে এলেন ১১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে চওড়া গড়নের মুখমণ্ডল যাদের, তারা সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের খেলায় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি আগ্রাসী ছিল। সম্পত্তি পাওয়ার আশায় তারা অন্য গড়নের মুখমণ্ডলওয়ালা পুরুষদের তুলনায় তিন গুণ বেশি মিথ্যে বলেছে। এরপর বিষয়টি নিঃসন্দেহ হওয়ার জন্য আরেকটি পরীক্ষা করা হয়। এবার বিভিন্ন কলেজের ১০৩ শিক্ষার্থীকে একটি লটারি খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। তাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিল ৫০।
লটারিতে দুটি গুটি ছিল। কাঙ্ক্ষিত নম্বরটির জন্য সেগুলো ছুঁড়ে মারতে বলা হয়। তবে সুযোগ পেলে এখানে চিটিং বা জোচ্চুরি করা যাবে বলে তাদের আগে থেকেই জানানো হয়। দেখা যায়, চওড়ামুখোরাই এ ধরনের সুযোগের সবচে বেশি ব্যবহার করেছে। উভয় পরীক্ষার পর গবেষকদের সিদ্ধান্ত, চওড়া মুখমণ্ডলধারীরা খানিকটা আগ্রাসী এবং অবিশ্বস্ত হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত একেবারেই প্রাথমিক এবং এটি মানতে কেউ বাধ্যও নয়।
গবেষকরা অবশ্য নারীদের নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে আসেননি। এমন কি উভয় গবেষণায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নারী অংশ নেওয়ার পরও নয়। মন্তব্য করাটা আসলে সহজও নয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন_’নারীর মন, সহস্র বছরের সাধনার ধন।’ সেই মনের প্রতিভাস মুখের গড়নে সহজেই পড়ে ফেলাটা কি এতই সোজা? তার জন্য বরং চলুক, আরো লম্বা সময়ের গবেষণা। সূত্র : লাইভ সায়েন্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইন।
Advertisements