অর্ধ স্ত্রী-অর্ধ পুরুষ

Posted on July 14, 2011

0


প্রজাপতি একটি ক্ষুদ্র পতঙ্গ হলেও এর রূপ-মাধুর্যে বিমোহিত কবি-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। প্রজাপতির মতো পাখা মেলে উড়ে বেড়ানোর সাধ করে অনেকেই। কিন্তু বাস্তবে হয়তো এমনটা হয় না। তবে এমন প্রজাপতি বোধ হয় কেউ হতে চাইবে না, যার অর্ধেক স্ত্রী এবং অর্ধেক পুরুষ। এর পরও বাস্তবে এমন প্রজাপতির দেখা মিলেছে। আর সেটি ঘটেছে লন্ডনের নেচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে।

লন্ডনের ওই জাদুঘরে জন্ম নেওয়া বিরল প্রজাতির প্রজাপতিটি লম্বালম্বিভাবে স্ত্রী-পুরুষে বিভক্ত। এর এক পাশের পাখা পুরুষের এবং অন্য পাশেরটি বর্ণিল স্ত্রী প্রজাপতির। কেবল পাখা নয়, এর দেহও দুই জাতে বিভক্ত। এমনকি প্রজনন অঙ্গও অর্ধেক স্ত্রীর, অর্ধেক পুরুষের। এ ছাড়া মাথার শুঙ্গও ভিন্ন দৈর্ঘের। প্রজননের সময় লিঙ্গ নির্ধারণী ক্রোমোজম আলাদা না হওয়ায় এমনটা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রজাপতিটি যে বাঙ্ েরাখা আছে এর ছোট্ট একটি কুঠরি দিয়ে আপাতত একে দেখতে পারছে দর্শনার্থীরা। বয়স এক মাস পূর্ণ হলে একে জাদুঘরের সংগ্রহশালায় প্রদর্শনের জন্য রাখা হবে।
বিজ্ঞানের ভাষায় এমন অপ্রতিসম প্রজাপতিকে বলা হয় গাইনানড্রোমরফ্স। প্রজাপতির মধ্যে এ ধরনের জাত জন্ম নেওয়ার সম্ভাবনা শতকরা দশমিক ০১ ভাগ। লন্ডনের ওই জাদুঘরে প্রজাপতিটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা লুক ব্রাউন বলেন, ‘সুতরাং বুঝতেই পারছেন এটি দেখার পর কেন আমি একে আলাদা করেছি।’
প্রজাপতির প্রতি ব্রাউনের আগ্রহ সেই ছোটবেলা থেকে। সাত বছর বয়সেই প্রথম প্রজাপতির ঘর তৈরি করেন তিনি। ইতিমধ্যে তাঁর সংগ্রহে আছে তিন শর মতো প্রজাপতি। সদ্য জন্ম নেওয়া অর্ধ স্ত্রী-অর্ধ পুরুষ প্রজাপতিটি নিয়ে তিনটি অপ্রতিসম জাতের জন্ম হয়েছে সেখানে।
সাধারণত এশীয় অঞ্চলে ‘প্যাপিলিলিও মেনন’ প্রজাতির দ্বৈত লিঙ্গের প্রজাপতির দেখা মেলে। সূত্র : বিবিসি অনলাইন।