সুখের সন্ধানে আমাদের নিত্য পথ চলা।

Posted on July 17, 2011

0


_

_

সেদিন বন্ধুদের সাথে বিতর্ক হচ্ছিল এই পৃথিবীতে কোন মানুষ নাকি একটা মূহর্তের জন্যও ১০০% সুখী হতে পারে না। আর তাইতো পৃথিবীতে সুখী মানুষ খুজে পাওয়া সম্ভব নয়।কিন্তু আমি নিজেকে পৃথিবীর একজন ক্ষুদ্র, কিন্তু সুখী মানুষ হিসেবে ভাবতেই পছন্দ করি।বিধাতা এরকম সুন্দর একটা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন,শুধুমাত্র সুখী মানুষদের জন্যই।এই পৃথিবীতে সুখী মানুষের সংখ্যা হয়তবা কম, কিন্তু শূন্য নয়। সুন্দরের পূজরী,সত্যের সাধক এই সুখী মানুষেরা আছে বলেই পৃথিবীটা আজও টিকে আছে। আমার বন্ধুদের মত অনেকেরই এ ব্যপারে বিপরীত মতামত থাকতে পারে,কিন্তু আমরা সবাইতো এই সুখের সন্ধানেই নিত্য পথ চলছি।

“জীবন মানে স্বপ্ন রচনা করা, স্বপ্নকে অবলম্বন করে সময়ের স্রতে ভেসে চলা, অবশেষে সম্ভব হলে সৎ কর্মকান্ডের মাধ্যমে সে স্বপ্নকে কল্পনার পৃথিবী থেকে বাস্তবের পৃথিবীতে নিয়ে আসা।”আমরা অনেকেই জীবনের এই সহজ সংজ্ঞাটিকে জটিল করে ফেলি, আর তখনই দেখা দেয় বিপর্যয়। মানুষের জীবনে অভাব সীমাহীন, অভিযোগও ছায়ার মত সব সময় সাথেই থাকে, কথাগুলি  শুনতে খারাপ হলেও সত্য। কিন্তু এগুলোকে বাদ দিয়ে কি একটি প্রানবন্ত সুখী জীবন কল্পনা করা সম্ভব? আমাদের সীমাহীন অভাবের অতৃপ্ত পরিনতিকে আমরা দু:খ বলে মনে করি।কিন্তু আমাদের জীবনতো সংক্ষিপ্ত। আমাদের এই ছোট্ট জীবনে সকল চাহিদা পূরণ হয়তবা নাও হতে পারে, আমাদের চলার পথ যেহেতু মশৃণ নয় তাই চলার পথে কষ্ট,ব্যথা,বেদনা থাকতেই পরে কিন্তু তাই বলে  দু:খের কারণ হিসেবে তা আমাদের জীবনকে ধ্বংস করে দিতে পারে না। আর তাই যদি কারো জীবনে সত্যি হয় তাহলে ধরে নিতে হবে,হয়তবা কোনটা সুখ আর কোনটা দু:খ তাই এখনো তার চেনা হয়ে ওঠেনি। প্রকৃতপক্ষে দু:খ ব্যপারটা আপেক্ষিক, জীবনের চলতি পথের ছোট ছোট কষ্ট গুলোই দীর্ঘ দিন আমাদের অন্তরে লালিত হয়ে দু:খে পরিনত হয়। দু:খের মৌলিক কোন অস্তিত্ব এই পৃথিবীতে নেই। তাহলে সুখ কী?আসলে আমাদের জীবনে দু:খের অনুপস্থিতিই হল সুখ, আমাদের জীবনে দু:খ না থাকাটাই হল সুখ।

আমাদের জীবনে চাওয়া পাওয়া, অভাব-অভিযোগ ,চাহিদা এসব কিছুই কখনো কখনো কষ্টের কারণ হলেও পরোক্ষভাবে তা সুখেরই অংশ। একটু কল্পনার জাল বিস্তার করে মনে করি, আমার সকল চাওয়া পাওয়াতে পরিণত হয়েছে, আমার সকল আকাংঙ্খা পূর্ণতা পেয়েছে, সকল অভিষ্ট সাধন হয়েছে, আমার সকল সাধনার সফল পরিনতি মিলেছে।তাহলে আমি কতটা সুখী, তাহলে আমার বেচেঁ থাকার মানেটা কি?এঅবস্হায়  এই পৃথিবীর জন্য আমার আর কি বা করার আছে? যদি এমনটা কারো জীবনে ঘটত, হয়তবা বেঁচে থেকেও সে জীবনটার জীবন্ত  মৃত্যু ঘটত। তাই পরম প্রাপ্তি কখনোই প্রকৃত সুখ দিতে পারে না। আজ অভাব আছে বলেই অভাব পূরণের তাগিদ আমাদের জীবনকে গতিশীল করে রেখেছে।

সুখ যদি দু:খের অনুপস্থিতিই হয় তবে সুখ আর দু:খের পার্থক্যটা আমাদের জীবনে কিভাবে ফুটে উঠবে?প্রশ্নটা আমার এক বন্ধুর। একদিন দুজন ব্যক্তি একই সাথে পথ চলতে চলতে একটা অনাকাংঙ্খিত ঘটনার সম্মুখিন হল যা তাদের দুজনকেই বেশ কিছুটা ব্যখিত করল, তাদেরকে থমকে দাড়াতে হল কিছু সময়ের জন্য, আবার সময়ের নির্দেশে তাদের এক সময় ফিরেও আসতে হল। যেমনটি আমাদের জীবনে প্রতিনিয়তই ঘটে চলেছে। অনেকদিন বাদে ঐ দুজন ব্যক্তির মধ্যে আবার দেখা হল, কিন্তু একি একজনকে কেমন যেন বিমর্ষ দেখাচ্ছে। কেন এই বিমর্ষতা? আসলে ঐ দুজন ব্যক্তির জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাটা দুই জনার কাছে দুই ভাবে গৃহিত হয়েছে, একজন তার স্বাভাবিক কর্মকান্ডের মধ্যে ডুবে গিয়ে জীবনের স্বাভাবিক গতিটাকে ধরে রাখতে পেরেছে আর অন্যজন সেদিনের সেই ব্যথা, বেদনাকে আজও লালন করে চলেছে। সুখ আর দু:খের উপস্থিতি এখানেই উদ্ভাসিত। আমাদের জীবনে কষ্ট, ব্যথা, বেদনা, শোক এ সবই ক্ষণস্হায়ী যা সময়ে স্রতে ভেসে আসে আবার তাতেই ভেসে যায়। কিন্তু সুখ বা আনন্দটা দীর্ঘস্থায়ী, যা আমাদের আগামীর ভবিষ্যৎকে গড়তে প্রেড়ণা যোগায়।

আমরা স্বধীন হতে চাই কিন্তু আমরা তার উল্টো কাজটা করি, অমরা আমাদের চারিপাশে একটা গন্ডি বা বলয় তৈরি করে ফেলি এবং চিন্তা করি আমাদের পৃথিবীটা এটুকুই। যাদেরকে নিয়ে আমাদের গন্ডির সীমানা রচনা হয় তাদের সুখের জন্য আমরা কত কি না করি। আমরা গোটা কয়েক মানুষকে আমাদের পরম আত্মীয় মনে করি সর্বদা  তাদের সান্নিধ্য কামনা করি তাদেরকে নিয়েই স্বপ্ন রচনা করি, আমাদের সুখ দু:খ ভাগ করে নিতে চাই তাদের সাথেই। আমরা ভুলে যাই আমাদের এই সীমানার বাইরে পড়ে রয়েছ আমার জন্মভূমি, আমার দেশ, আমার পৃথিবী। অমার দেশ, আমার পৃথিবী আমার কাছে অনেক কিছু প্রত্যাশা করে আছে, এই পৃথিবীর একজন কর্ণধার রূপে তার কতটুকুই বা পূরণ করার চেষ্ট করছি। একজন মানুষ যখন একটা বলয়ের মধ্যে আবর্তিত হয় তখন তার কর্ম কান্ড হয়তবা গোটা কয়েক মানুষের কছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে, আর বাস্তব ক্ষেত্রে এটাই বেশি ঘটে থাকে। ফল স্বরূপ তার জীবনে নেমে আসে সীমাহীন দু:খ কষ্ট। কিন্তু আমরা যদি আমাদের চিন্তা চেতনার জগৎটাকে বিস্তৃত করতে পারি, আমরা যদি আমাদের সৎ কর্মকান্ড গুলোকে শুধু গোটা কয়েক মানুষের জন্য নয় আমার জন্মভূমির সকলের জন্য, আমার দেশের জন্য, সম্ভব হলে এই পৃথিবীর জন্য উৎসর্গ করতে পারি তাহলে হয়তবা গুটি কয়েক মানুষ বিরোধিতা করবে কিন্তু আমার সাথে থাকবে পুরো পৃথিবীটা আর এখানেই পরম অনন্দ পরম সুখ। হয়তবা এই সুখের প্রত্যাশাতেই আপনিও আছেন আসুননা আমরা সকলে মিলে দু:খ বিহীন একটা সুখের স্বর্গ রচনা করি। আমি আজও স্বপ্ন দেখে চলেছি এরকম একটা নতুন দিনের।

Advertisements